সংঘ পরিবার

আজকের দিনেই মুলায়মের নির্দেশে নিরস্ত্র করসেবকদের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল পুলিশ, দেখুন VIDEO

আজকেই সেই গণহত্যার ২৮ বছর পূর্তি যেই হত্যাকান্ড পথ প্রশস্ত করেছিল ১৯৯২ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে ঘটে যাওয়া বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার। ইতিহাস এবং দেশের মিডিয়া এই ঘটনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ড এবং শহীদ করসেবকদের ভুলছি না।

কি হয়েছিল সেদিন?

দিনটা ছিল ১৯৯০ সালের ৩০শে অক্টোবর, অযোধ্যার রাম মন্দির  আন্দোলন তখন চরমে, বিজেপি্র লালকৃষ্ণ আডবানি গুজরাতের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত এই মর্মে রথ যাত্রা করছে, উত্তর প্রদেশে তখন মুখ্যমন্ত্রী হলেন মুলায়ম সিং যাদব  ।  তিনি প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন যে মসজিদের সামনে কোনভাবেই যেন কেউ না  যেতে পারে।  সেই মত প্রশাসন বাবরি মসজিদের দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত কারফিউ জারি করে দেয়।

সেদইন কার্তিক পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে অযোধ্যায় ভক্তদের ব্যাপক ভিড় ছিল, তাই এই ভিড়ের সামনে পুলিশের সুরক্ষা ব্যবস্থা কিছুক্ষনেই জবাব দিয়ে দেয়, ভিড়ের চাপে ভেঙে যায় ব্যারিকেট। মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের কড়া নির্দেশ ছিল যে কোন ভাবেই যেন বাবরি মসজিদে একটুও আঘাত না লাগে, তার জন্য পুলিশকে চরম পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া ছিল।

করসেবকরা এগিয়ে আসছে দেখে পুলিশ এলোপাথারি গুলি চালায়, ঘটনাস্থলে বহু কারসেবক লুটিয়ে পরেন, বহু কারসেবক সেখানেই প্রাণ হারান। পুলিশ বহু মৃতদেহ লোপাট করে পাশের সরজু নদীর চরে পুঁতে দিয়ে আসে, যার মধ্যে কিছু দেহ অন্য কারসেবকরা উদ্ধার করে। সেই ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ঘটয়াঙ্কে জালিওয়ানওয়ালাবাঘের থেকেও নৃশংস বলে বর্ণনা করে। তাদের দাবী- জেনেরাল ডায়ার তো বিদেশী ছিল, কিন্তু এই নিরস্ত্র কারসেবকদের ওপর গুলি চালিয়েছিল স্বাধীন ভারতের পুলিশ, যাদের দায়ত্ব হল নাগরিকদের রক্ষা করা।

সেদিন সরকারি ভাবে ৫ জনার মৃত্যুর কথা জানানো হলেও আসলে সেদন প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫০ জনার বেশী। আর এই ঘটনার পরেই মুসলিম তোষনকারী মুলায়ম সিং যাদবের নাম হয় মোল্লা মুলায়ম। নির্লজ্জতার চরম পর্যায়ে গিয়ে এই মুলায়ম সিন গত নির্বাচনের আগে একটি সভায় গিয়ে কারসেবকদের ওপর গুলি চালানোকে নিজের বীরত্ব হিসাবে তুলে ধরেন।

দেখুন সেই হত্যাকান্ডের ভিডিও, দুর্বল চিত্তের লোকেরা দয়া করে দেখবেন না

সেদিনের হত্যাকান্ডের সবথেকে দুঃখজনক দিক হল দুই আপন ভাই রাম এবং শরত কোঠারির হত্যা। কোলকাতার বড়বাজারের এই দুই ভাই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকে সাড়া দিয়ে কারসেবা দিতে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। ২০ এবং ২২ বছর বয়সী এই দুই ভাই বজরঙ দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং নিয়মিত ভাবে RSS-এর শিবির করতেন।

৩০শে অক্টোবর ১৯৯০ সালে এই দুই ভাইকে পুলিশ পয়েন্ট বক্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাদের দিদি দুই ভাইকে হারালেও তার একটাই আশা রাম মন্দির নির্মান হবেই, এবং তার দুই ভাইয়ের এই বলিদান কোন ভাবেই ব্যর্থ হবে না। আর রাম মন্দির নির্মানের মধ্য দিয়েই তার দুই ভাই তাদের সর্বোচ্চ বলিদানের সঠিক সন্মান পাবে।

 

Facebook Comments

Related Articles

Close