অপরাধ

বীরভূমে ৬০০ বছরের পুরোনো মায়ের মন্দিরে চুরি, প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

গত ৭ই নভেম্বর, বুধবার রাত্রে বীরভূম জেলার সদাইপুর থানার অন্তর্গত চিনাপাই গ্রামের ৬০০ বছরের পুরোনো মা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে ভয়ানক চুরির  ঘটনা ঘটলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা মন্দিরের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভরি সোনার অলংকার এবং কয়েক কেজি রুপোর গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে এই মন্দির খুবই জাগ্রত মন্দির। মা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের কালী মা- কে গ্রামের বাসিন্দারা বড় মা বলে ডাকতেন এবং এই মন্দিরের ঠিক পিছনে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আর একটি কালী মন্দির রয়েছে, যা ছোট মায়ের মন্দির নামে পরিচিত। দুটি মন্দিরই প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এবং প্রতি বছরই  ধুমধাম করে কালী পূজা হতো।

এছাড়াও পূজাকে কেন্দ্র করে বড়ো মেলা বসে। কিন্তু ৭ই নভেম্বর, বুধবার রাত্রে সদাইপুর থানার পুলিস ওসি আব্দুর রব খান মন্দিরের সামনে এসে জোর করে সমস্ত লাইট বন্ধ করে দেন এবং ওখানে থাকা সবাইকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি প্রতিদিন যে দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার মন্দির পাহারা দিতেন,তাদেরকেও সরিয়ে নেন অফিসার।

  পরেরদিন সকালে মন্দিরের সেবাইত এসে দেখেন যে মন্দিরে মায়ের সমস্ত অলংকার চুরি হয়ে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনা আশেপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা মন্দিরের সামনে জড়ো হন।
পরে তাঁরা ন্যাশানাল হাইওয়ে অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ হিন্দুরা রাস্তার ওপর টায়ার,কাঠ জ্বালিয়ে অবরোধ করতে থাকেন। অবরোধের খবর পেয়ে ওসি আব্দুর রব খান ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রাখেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানাতে থাকেন।
অবরোধে অনেক লরি আটকে পড়ে। পরে অন্যান্য এলাকা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং RAF এসে আব্দুর রব খানকে উদ্ধার করে। পরে ডগ স্কোয়াড আসে এবং জেলা সদর থেকে সিআইডি অফিসাররা এসে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা অবরোধ তুলে নেয়। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষোভে ফুঁসছেন এবং তাঁরা সদাইপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
খবর সূত্র: দেবতনু ব্লগ
Facebook Comments
157 Shares

Related Articles

Open

Close