সংঘ পরিবার

সঙ্ঘ পরিচালিত স্কুল বন্ধ করতে গিয়ে হাইকোর্টে সপাটে চর খেলো রাজ্য সরকার

আরএসএস পরিচালিত স্কুল বন্ধ নিয়ে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দক্ষিণ দিনাজপুরে সারদা শিশুতীর্থ স্কুলগুলোর মতো সারা রাজ্য জুড়ে যে ‘একল’ বিদ্যালয় বা একক শিক্ষক পরিচালিত স্কুল রয়েছে তা চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি লাগবে না বলে বুধবার জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায় জানান, ‘যেহেতু আর পাঁচ স্কুলের মতো এখানে পাশ ফেল নেই, বা অন্যান্য নিয়োম লাগু নেই। এগুলো নন ফরম্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা স্বশাসিত বিদ্যালয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কুল তাই এগুলো চালানোর জন্য রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে না।’

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুরের ১০ টি স্কুল বন্ধের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল স্কুল কর্তৃপক্ষকে যাবতীয় নথি নিয়ে ডাকে উত্তর দিনাজপুরের ডিআই। তাদের থেকে সব নথির প্রতিলিপি জমা নেওয়া হয়। ২৩ এপ্রিল সেগুলোকে রিজেক্ট করে জানানো হয় স্কুলকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না বলে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, স্কুলের অনুমোদন নেই। শিক্ষার অধিকারের আইন মেনে যে যে পরিকাঠামো দরকার তা নেই। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় স্কুলগুলো।’

মামলাকারীর আইনজীবীরা দাবি করেন, শুধুমাত্র পরিকাঠামো কারণ দেখিয়ে ডিআই নিয়ম বহির্ভূত ভাবে স্কুলগুলোকে বন্ধ করতে চাইছে। স্কুল বন্ধ করার কোনও এক্তিয়ারই ডিআই-এর নেই। একমাত্র রাজ্য শিক্ষা দফতর যদি সঠিক কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ করতে চায় তা পারে কিন্তু তার সময়, সুযোগ দিতে হয়।

কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ ও আইনজীবী শঙ্কর সরকার জানান, ‘রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিয়ম করেছে রাজ্যের কোনও স্কুল বন্ধ করা যাবে না। সেখানে এই স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কেন? স্কুলগুলোতে যদি পরিকাঠামোর অভাব থাকে তাহলে সরকারের উচিত সাহায্য করা।’

উল্লেখ্য, গোটা দেশ জুড়ে প্রায় একত্রিশ হাজারটি এমন স্কুল রয়েছে। এই রাজ্য রয়েছে প্রায় তিন হাজারের মতো একল স্কুল। মূলত আদিবাসী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই রকম স্কুল রয়েছে।

Facebook Comments
11K Shares

Related Articles

Open

Close