দুর্নীতি

কংগ্রেসের পর্দা ফাঁস – হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারির অভিযুক্তের আইনজীবী কংগ্রেসের যুব নেতা

বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলে হওয়া অন্যতম দূর্নীতি হল অগাস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার দুর্নীতি। এই হাই প্রোফাইল কেলেঙ্কারি দূর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তৎকালীন বায়ূসেনা প্রধান সহ একাধিক শীর্ষ স্থানীয় কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীর। এবং সবথেকে বড় ব্যাপার হল যে এই কেলেঙ্কারিতে সরাসরি অভিযোগের আঙুল উঠেছিল গান্ধী পরিবারের দিকে। বলতে কোন দ্বিধা নেই যে ২০১৪ সালে কংগ্রেসের ভরাডুবির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এই কেলেঙ্কারির ।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই জোর কদমে এই মামলার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই মত সিবি আই এবং ইডি এই মামলার মূল অভিযুক্ত ক্রিস্টান মিশেলকে দুবাই থেকে ভারতে আনতে সফল হয়। এক নির্বাচনী সভায় গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন যে এবার এই কেলেঙ্কারিতে কে কে মোটা টাকা কামিয়েছেন তা খুব শিঘ্রই সবার সামনে চলে আসবে।

তবে বিপত্তি বাধে অন্য জায়গাতে বা বলা যেতে পারে যে কংগ্রেসের ভন্ড মুখোষ খুলে আসল চেহারা আরও একবার সবার সামনে চলে আসে। আসলে ভারতের আদালতে অভিযুক্ত  ক্রিস্টান মিশেলের হয়ে যেই আইনুজীবী মামলা লড়তে দাঁড়ান তার নাম আলজো জোসেফ। জানা গেছে যে এই আলজো জোসেফ কংগ্রেস যুব মোর্চার নেতা এবং লিগাল সেলের দায়িত্বে আছেন।

খবর জানাজানি হতেই প্রথমে দলের তরফে জানানো হয় যে এটা তার পেশা তাই তিনি যে কারোর হয়ে মামলা লড়তেই পারেন। তবে রাত হতে হতে বিপত্তি বুঝে দলের তরফে জোসেফকে কংগ্রেস্ থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষনা করা হয়। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে যে তিনি পেশাগত কারণে  ক্রিস্টান মিশেলের হয়ে মামলা লড়লে তাকে কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হল?

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে সুপ্রিম কোর্টে চলা রাম মন্দির মামলায় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের হয়ে মামলা লড়ছেন কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতা কপিল সিব্বাল । তিনি শুনানিতে আর্জি জানিয়েছিলেন যে মামলার শুনানি যে ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের পর থেকে করা হয় নাহলে শাসক দল এর লাভ পেতে পারে। সেই সময়েও কংগ্রেস দাবী করেছিল যে সিব্বালের এটা পেশা এর সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই।

তবে বিশেষজ্ঞরা অনে করছেন যে এই ভাবে কংগ্রেস সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ সংবাদ মাধ্যমে তারা এই কথা বললেও নিজেদের মুসলিম ভোটারদের বার্তা দিচ্ছেন যে বাবরি মসজিদের হয়ে আদালতে তারাই লড়ছে। আর একই পন্থা নিয়ে  ক্রিস্টান মিশেলের হয়ে আদালতে মামলা লড়ছেন তাদের দলের নেতা আলজো জোসেফ। তবে মনে করা হচ্ছে যে মণিশঙ্কর আইয়ারের মত এটাও আই ওয়াশ। কারণ তিনি দলেই থাকছেন এবং মামলাও আগের মত লড়বেন। কারণ কংগ্রেস ভালো করেই জানে যে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত গান্ধী পরিবার। তাই তাদের বাঁচাতে দলের লোক ছাড়া অন্য কারোর ওপর তারা কোন ভাবেই ভরসা করতে পারছেন না।

Facebook Comments

Related Articles

Open

Close