মহান ভারত

নৃশংসতার বিরুদ্ধে মানবতার বিজয় দিবস আজ

এ দিন পৃথিবীর বুকে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম লাভ করে বাংলাদেশ। সেই সাথে দ্বিজাতিতত্ত্বের স্বরূপে পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক বর্বরতাকে হার মানানোর দিন।

প্রতি বছর এই দিনটা এলেই লজ্জায় মুখ লুকোনোর জায়গা খুঁজে পায়না পাকিস্তান৷ কারণ, এদিনই ভারতীয় সেনার পরাক্রমের কাছে আরও একবার ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল পাক সেনার সমস্ত ষড়যন্ত্র৷ এদিনই আরও একবার ভারতীয় জওয়ানরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে ‘স্যাঁকরার ঠুকঠাক’ নয়, ‘কামারের এক ঘা’ নীতিতেই বিশ্বাসী তারা৷

১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল ভারত৷ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন ভারতীয় জওয়ানরা৷ ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরই ভারতের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছিল পাক সেনা৷ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধ সম্পর্কে অনেক গোপন তথ্যই আজ সকলের জ্ঞাত৷ তবে এখনও অজ্ঞাত রয়েছে এমন অনেক তথ্য, যা জানলে গা শিউরে উঠবে৷

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা ও তাদের বাঙালি দোসরদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের কমবেশি তিন থেকে চার লক্ষ মহিলা৷ বাড়ি থেকে টেনে বের করে বা ঘরে ঢুকে নিজেদের লালসার শিকার করেছিল পাক সেনা৷

প্রতিবাদ করলেই প্রাণে মেরে ফেলা হয়েছিল তাদের৷ ৭১-এর যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ভারতের ৩৯০০ জন জওয়ান এবং গুরুতর জখম হয়েছিলেন ৯৮৫১ জন৷ কিন্তু যুদ্ধবন্দি হয়েছিল প্রায় ৯৩ হাজার পাক সেনা৷ জানা গিয়েছে, তৎকালীন পাক সরকারের তরফ থেকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল যে, পূর্ববঙ্গে মুসলিমের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সেলক্ষ্যেই নাকি ময়দানে নেমেছিল পাক সেনা৷

যুদ্ধের আগে বাংলাদেশকে কার্যত নরকে পরিণত করেছিল পাক সেনা৷ নির্মম অত্যাচার চালানো হয় সেদেশের সাধারণ মানুষের উপর৷ নির্বিচারে হত্যা করা হয় পুরুষদের৷ বলপূর্বক মহিলাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা ক্যাম্পে৷ সেখানে বয়স ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী প্রথমে তাদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে পাক সেনা অফিসারেরা৷ এরপর, তাদের প্রায় যৌনদাসী হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে৷

কেউ প্রতিবাদ করলেই অবধারিত ছিল মৃত্যু৷ এরপর ট্রাকে করে সেই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হত দূরের কোনও পরিত্যক্ত স্থানে এবং সেখানেই ফেলে আসা হত লাশ৷ যুদ্ধ মানেই মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা আগেও দেখেছে বিশ্ব বা এখনও দেখছে বিশ্বের কোনও কোনও দেশ৷ তবে ৭১-এর আগে বাংলাদেশে পাক সেনার অত্যাচারের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে এখনও শিউরে ওঠেন অনেকেই৷

অবশেষে রক্তস্রোত পেরিয়ে আসে ১৬ই ডিসেম্বর, কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের দিন। ভারতীয় সেনারা আজও এ দিনটিকে উদযাপন করে থাকেন নৃশংসতার বিরুদ্ধে মানবিকতার বিজয়রূপে, আর বাংলাদেশীরা নতুন একটি স্বাধীন দেশ লাভের আনন্দে।

Facebook Comments

Related Articles

Open

Close