অন্যান্য

গোটা বিশ্বে ২০১৯ চললেও, আজব রহস্যে ভরা এই দেশে এখনো চলছে ২০১২!

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হতে চলল। আর নতুন বছরের আনন্দে মাতোয়ারা মানুষগুলো ধীরে ধীরে তাঁদের দৈনন্দিন কাজে আবার ব্যাস্ত হতে চলেছে। কিন্তু এখনো এমন এক দেশ আছে যারা গোটা বিশ্বের থেকে ৭ বছর ৩ মাস পিছিয়ে। সেই দেশে এখনো ২০১১ সাল চলছে! আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়া দেশ গোটা বিশ্বের থেকে পুরোটাই ভিন্ন। এই দেশে বছরে ১২ মাসের যায়গায় ১৩ মাস হয়। আসুন জেনে নিই এই আজব দেশ সমন্ধ্যে কিছু খুঁটিনাটি তথ্য।

৮৫ লক্ষের জনসংখ্যার এই দেশ আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় সবথেকে বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত। এই দেশে ব্যাবহৃত Gregorian ক্যালেন্ডার গোটা বিশ্বের তুলনায় পৌনে আট বছর পিছিয়ে। এই দেশে নতুন বছর ১লা জানুয়ারির যায়গায় ১৩ মাস পর ১১ সেপ্টেম্বরে পালিত হয়।

Gregorian ক্যালেন্ডারের শুরু ১৫৮২ সালে হয়েছিল। তাঁর আগে রোমের স্বৈরাচারী শাসক গাইউস জুলিয়াস সিজার জারমানিকাস এর তৈরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যাবহার হত। ক্যাথলিক চার্চের বিশ্বাসীরা নতুন ক্যালেন্ডারকে স্বাগত জানায়। কিন্তু অনেক দেশ নতুন জুলিয়ান ক্যান্ডারের বিরোধিতা করে, তাঁদের মধ্যে এক দেশ হল ইথিওপিয়া।

ইথিওপিয়ার অর্থাডক্স চার্চের বিশ্বাস ছিল ‘ইসা মসিহা”এর জন্ম ৭বিসি তে হয়েছিল, আর সেই অনুসারে ক্যালেন্ডারের গণনা শুরু হয়। আরেকদিকে বিশ্বের বাকি দেশ গুলোর অনুসারে ইসা মসিহার জন্ম  AD1 এ হয়েছিল। আর এরজন্যই ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার এখনো ২০১২তেই আটকে আছে।

ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডারে এক বছরে ১৩ মাস আছে। ১৩ মাসের মধ্যে ১২ মাসে ৩০ দিন করে আছে, আর সর্বশেষ মাসকে Pagumay বলা হয়। সেই মাসে ৫-৬ দিন আছে। এই মাস বছরের ওই দিনের শ্মরনে বানানো হয়েছে, যেই দিনগুলো ভুলে ভ্রান্তে গণনায় আসেনি।

তবে ইথিওপিয়ার মানুষ এদিকে নজর রাখে যে, এই ক্যালেন্ডারের জন্য তাঁদের দেশে ঘুরতে আসা মানুষদের যেন কোন অসুবিধে না হয়। যদিও ইথিওপিয়ায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকেরা হোটেল বুকিং এবং কিছু কিছু সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্যালেন্ডারের প্যাঁচে ঠিকই পরে।

এই দেশের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ আছে। যেমন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ যায়গা গুলোর মধ্যে সবসে বেশি সংখ্যক যায়গা এই দেশে আছে। যেমন বিশ্বের সবথেকে গভীর এবং দীর্ঘ গুহা এই দেশে আছে। বিশ্বের সবথেকে গরম এবং প্রাকৃতিক সুন্দরে ভরপুর যায়গা এই দেশে আছে। আর এরজন্য প্রতি বছর এই দেশে প্রচুর পর্যটক আসে। ১১ সেপ্টেম্বরে পালন করা নতুন বছর ও এই দেশের অনেক বড় আকর্ষণ।

Facebook Comments
221 Shares

Related Articles

Close